সরকার কি ধর্মীয় কাজে অর্থ ব্যয় করতে পারে!
প্রতি বছর ৫০০ কোটি টাকা দুর্গা পুজোর খয়রাতি না হলে ঐ টাকাতেই প্রত্যেক বছরেই কয়েক হাজার ছেলেমেয়েদের কর্মসংস্থান হতো
সরকার কি ধর্মীয় কাজে অর্থ ব্যয় করতে পারে
অধ্যাপক পলাশ হালদার তাঁর ফেসবুক পেজে লিখেছেন - আমি যদি মুখ্যমন্ত্রী হতাম বা যদি আমার কাছে দুর্গা পুজোর খয়রাতির টাকাটা খরচ করার সুযোগ থাকতো, তাহলে কী করতাম!এ বছরের দুর্গা পুজোর খয়রাতির বাজেট প্রায় সব মিলিয়ে প্রায় ৫০০- কোটি টাকা, রাজ্যের ২৩- টা জেলা আছে। প্রত্যেক জেলা অনুযায়ী ভাগ করলে প্রত্যেক জেলা ২১.৭৪ কোটি অর্থাৎ প্রায় ২২ কোটি টাকা।
এই ২২ কোটি টাকায় একটা জেলাতে সেন্টার যায়গা দেখে একটা বড়ো মাপের স্কিল ডেভেলপমেন্ট সেন্টার খোলা যেত, সেই স্কিল ডেভেলপমেন্ট সেন্টারে হস্টেল সমেত বিভিন্ন কারিগরি কোর্স, টেকনিক্যাল কোর্স, ডিপ্লোমা কোর্স, কর্মসংস্থান হবে এমন কোর্স, কৃষকদের ট্রেনিং, মহিলাদের ট্রেনিং সংক্রান্ত বিভিন্ন কোর্স খোলা যেত। কয়েক হাজার মানুষকে এই ট্রেনিং দেওয়া যেত।
এভাবে প্রত্যেক জেলাতে একটা করে স্কিল ডেভেলপমেন্ট সেন্টার অর্থাৎ ২৩- টা জেলায় ২৩-টা সেন্টার।
এবার প্রত্যেক বছর এই ৫০০ কোটির খয়রাতির টাকাটাই ঐ স্কিল ডেভেলপমেন্ট সেন্টারগুলো চালানোর জন্য বরাদ্দ হতো। জেলার দূরের ছেলেমেয়েদের জন্য ফ্রী থাকা খাওয়া বা খুব সামান্য খরচে থাকা খাওয়ার ব্যবস্থা, স্কিল ডেভেলপমেন্ট সেন্টার মেইনটেনেন্স খরচ, ট্রেনিং দেওয়ার শিক্ষকদের পারিশ্রমিক বা মাইনে-এর সঙ্গে দরিদ্র ছেলেমেয়েদের লোনের ব্যবস্থা-- সবকিছুই ঐ ৫০০- কোটি টাকায় ম্যানেজ হয়ে যেত।
শাসক সেই জনগণকে গোলাম বানাতে চাইছে, ধর্মান্ধ বানাতে চাইছে। আর জনগণ দেশের সংবিধানে সব অধিকার পেয়েও, আওয়াজ না তুলে গোলাম হওয়ার জন্য ভিক্ষার লাইনে দাঁড়িয়ে পড়েছে।
অর্থাৎ প্রতি বছর ৫০০ কোটি টাকা দুর্গা পুজোর খয়রাতি না হলে ঐ টাকাতেই প্রত্যেক বছরেই কয়েক হাজার ছেলেমেয়েদের কর্মসংস্থান হতো, এক একটা ছেলেমেয়ে পরিবারের তিন-চারজনের পেট চালানোর ব্যবস্থা করে।
অর্থাৎ বহু ছেলেমেয়েদের বেকারত্ব দূরীকরণ সেই সঙ্গে পরিবারের ভরণপোষণ সম্ভব হতো ঐ ৫০০- কোটি টাকাতেই। যদি প্রত্যেক বছর কয়েক হাজার ছেলেমেয়েদের ভবিষ্যৎ তৈরি হয়, সংখ্যাটা এক দশক পরে কয়েক লক্ষ হয়ে যায়।
সরকার, শাসক বা রাষ্ট্র চাইলেই খুব কম বাজেটেই দেশের শিক্ষিত, বেকার ছেলেমেয়েদের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করতে পারে।
সমস্যা হল যে, শাসক সেই জনগণকে গোলাম বানাতে চাইছে, ধর্মান্ধ বানাতে চাইছে। আর জনগণ দেশের সংবিধানে সব অধিকার পেয়েও, আওয়াজ না তুলে গোলাম হওয়ার জন্য ভিক্ষার লাইনে দাঁড়িয়ে পড়েছে।
আপনাকে আওয়াজটা তুলতে হবে। বলতে হবে, লিখতে হবে, সঠিক ভাবনায় ভোটটা দিতে হবে। তবেই তো কাজ হবে!
দেশের সংবিধান আপনার বাক স্বাধীনতার অধিকার দিয়েছে, ভোটের অধিকার দিয়েছে, আরও হাজারও অধিকার দিয়েছে। আপনাকে আওয়াজটা তুলতে হবে। বলতে হবে, লিখতে হবে, সঠিক ভাবনায় ভোটটা দিতে হবে। তবেই তো কাজ হবে!
দেশের বা রাজ্যের কোষাগারের টাকা কারও ব্যক্তিগত সম্পত্তি নয়। ধর্মীয় কোনো উন্মাদনা অকাজ কুকাজের জন্য ঐ অর্থ ব্যায় করার অধিকার সংবিধান কাউকে দেয়নি। ব্রিটিশরা চলে গেছে কিন্তু দেশটা ব্রাহ্মণবাদীদের হাতে তুলে দিয়ে গেছে।
দেশের, রাজ্যের মানুষদের প্রশ্ন করা উচিত।

