প্রকৃত উন্নয়ন ধ্বংস করে কেবল ছেঁড়া রুটি বিলি
দিলীপ গায়েন
শিক্ষিত বেকাররা না পারছেন ব্যবসা করতে, না পারছেন কৃষিকাজে লিপ্ত হতে, না পারছেন অটো-টোটো নিয়ে রাস্তায় বের হতে, কিংবা তেলেভাজা বা চপ মুড়ির দোকান করতে।
শিক্ষাব্যবস্থা লাটে উঠেছে।
সরকারি স্কুলে শিক্ষক নেই। শহর ও শহরতলীতে কেবল ধনী লোকদের জন্য প্রাইভেট স্কুলের বাড়-বাড়ন্ত হচ্ছে। গ্রাম বা শহর তলীর দরিদ্র পরিবারগুলোকে ক্রমশ শিক্ষার অঙ্গন থেকে দূরে সরিয়ে দেওয়া হচ্ছে।শিক্ষাব্যবস্থা লাটে উঠেছে।
(২) চিকিৎসাব্যবস্থা ধুঁকছে :
সরকারি হাসপাতালে ডাক্তার নেই।ফলে চিকিৎসাব্যবস্থা ধুঁকছে । গ্রামের হাসপাতালগুলোতে কেবল বিল্ডিং আছে, ভিতরে ছাগলের বাসা।
হেলথ স্কিমের নামে সরকারি টাকা বড় বড় প্রাইভেট হসপিটালকে পাইয়ে দেওয়া হচ্ছে ।
চিকিৎসাখাতে প্রচুর খরচ বেড়ে গেছে। কেবল ধনী বড়লোকরাই বেশি পয়সা দিয়ে প্রাইভেট হাসপাতালে চিকিৎসা হচ্ছে।
(৩) কৃষকের দুরবস্থা
কৃষকরা তাঁদের উৎপাদিত কাঁচা মালের দাম পাচ্ছেন না। ধান, আলু, সরিষা এবং বিভিন্ন প্রকার শাক-সবজি-আনাচ যাঁরা চাষ করছেন তাঁরা দাম পাচ্ছেন না। কারণ এগুলো দেশ-বিদেশে রপ্তানি করার জন্য সরকারের কোনো পরিকাঠামো নেই। গ্রামীণ কৃষকদের অবস্থা খুবই করুণ। অথচ কাঁচা মাল থেকে তৈরি শিল্পজাত পণ্যের দাম হু হু করে বাড়ছে।কৃষকদের উৎপাদিত কাঁচা মালের দাম কমিয়ে রেখে উপরে উপরে ৫ টাকার ভাত বিলি করা হচ্ছে। রেশনে অল্প টাকায় চাল দেওয়া হচ্ছে। সারা দেশের স্কুলে মিড-ডে মিল দেওয়া হচ্ছে। একবারও কি গ্রামের কৃষকের কথা কেউ ভেবেছেন? তাঁদের মুখের গ্রাস কেড়ে নিয়ে এটা কোন ধরনের উন্নয়ন হচ্ছে? কৃষকের ঘরের ছেলেমেয়েরা কিভাবে শিক্ষা, স্বাস্থ্য পাবে সেটা কি সরকার ভেবেছে? কেবল ছেঁড়া রুটি আর নামমাত্র জমির ক্ষতিপূরণ স্বরূপ কিছু নগদ ভিক্ষা দিলেই হবে ?
(৪) বেকারত্ব চরম আকার নিয়েছে :
বাবাসাহেবের স্বপ্নের এমপ্লয়মেন্ট এক্সচেঞ্জ হারিয়ে গেছে । কর্মসংস্থান শুন্যে । বেকারত্ব হু হু করে বাড়ছে । উচ্চশিক্ষিত ছেলে-মেয়েদের কপালে সরকারি চাকরি নেই। প্রাইভেট-সংস্থাতেও তাঁরা ১০ /১৫ হাজার টাকার বেশি বেতন পান না। মাত্র ২ শতাংশ হয়তো উচ্চ বেতনের চাকরি পাচ্ছেন। শিক্ষিত বেকাররা না পারছেন ব্যবসা করতে, না পারছেন কৃষিকাজে লিপ্ত হতে, না পারছেন অটো-টোটো নিয়ে রাস্তায় বের হতে, না পারছেন তেলেভাজা বা চপ মুড়ির দোকান করতে।(৫) পরিকাঠামোয় চরম অরাজকতা :
রাস্তায় এত পরিমাণে গাড়ি বের হয়েছে যে পথচারীদের বিপদ বেড়েছে, দূষণ বেড়েছে। দুর্ঘটনা লেগেই আছে।রাস্তা চওড়া করা, ফুটপাত তৈরি, পরিবেশ বান্ধব যান সাইকেলের লেন আলাদা করা---এসব দিকে সরকারের কোনো নজর নেই।
শহরতলী ও গ্রামীণ অঞ্চলে রাস্তাঘাটের অবস্থা খুবই খারাপ। রাস্তা মেরামত করা, নতুন রাস্তা কংক্রিট করা---এসব দিকে কোনো নজর নেই।
পৌরসভা ও পঞ্চায়েত অঞ্চলে পানীয়জল সরবরাহে সরকার ৪০% ব্যর্থ। অথচ সেসব নিয়ে কোনো হেলদোল নেই।
(৬) গণতন্ত্র ধ্বংস হয়ে চলেছে ।
সরকারি বিভিন্ন প্রকল্প খুলে ঘুরপথে নেতা ও দালালদের তোলাবাজি বেড়ে গেছে। ভিতরে ভিতরে জনগণ ক্ষুব্ধ। তবু বাইরে প্রকাশ করতে পারছে না।(৭) বহু নদী মজে যাচ্ছে।
গ্রামীণ অঞ্চলে খালগুলো ভরাট করা হচ্ছে। এদিকে নদীর জলধারণ ক্ষমতা কমে গেছে। বহু নদী মজে যাচ্ছে। ফলে বর্ষাকালে অতিবর্ষণে চাষ করা সম্ভব হয় না। মজা নদীর মাঝখান বরাবর জলপথ তৈরি করে দুইপাশে কংক্রিটের বাঁধ করা দরকার। আর গ্রামের ভিতরের খালগুলো সংস্কার করা দরকার। এসব দিকে কোনো নজর নেই সরকারের।(৮) গ্রামের মানুষেরা বঞ্চিত
সুন্দরবন তার অন্যতম । গোসাবা, সন্দেশখালি, হিঙ্গলগঞ্জে লক্ষ লক্ষ মানুষ বাস করা সত্ত্বেও দ্বীপগুলো এখনো মূল ভূখণ্ড থেকে বিচ্ছিন্ন কতকগুলো ছোট ছোট ব্রিজের অভাবে । হাজার হাজার কোটি টাকা ব্যয় করে ঢেলে শহর উন্নতি হচ্ছে আর গ্রামের মানুষগুলো থাকছে বঞ্চিত ।
--------xx-------
https://mnpinews.blogspot.com/2026/02/blog-post.html

