সোনম ওয়াংচুককে কেন বন্দী করা হলো?
সোনম ওয়াংচুককে কেন বন্দী বানানো হলো?মূলনিবাসী ফ্রন্ট সমর্থিত - মূলনিবাসী পার্টি তার প্রতিবাদ জানায়।
সোনম ওয়াংচুক একজন বিজ্ঞানী, পরিবেশবিদ, শিক্ষাবিদ, ম্যাগসেসাই পুরস্কারপ্রাপ্ত ৫৯ বছরের সমাজসেবী। রাজতন্ত্রের রক্তচক্ষু দেখিয়ে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে জাতীয় নিরাপত্তা আইনে।
সোনম ওয়াংচুক একজন বিজ্ঞানী, পরিবেশবিদ, শিক্ষাবিদ, ম্যাগসেসাই পুরস্কারপ্রাপ্ত ৫৯ বছরের সমাজসেবী। রাজতন্ত্রের রক্তচক্ষু দেখিয়ে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে জাতীয় নিরাপত্তা আইনে।
সর্বস্তরে সমালোচিত হয়েছে এই গ্রেফতার। তিনি নিঃসন্দেহে একজন শান্তির বার্তাবাহক। না, তিনি কোন বিচারকের নির্দেশে গ্রেপ্তার হননি। জাতীয় নিরাপত্তা আইনে তাঁকে গ্রেফতার করা হয়েছে। সরকার মনে করেছে তাই গ্রেফতার হয়েছেন। তবে, তিনি চিন্তিত নন। এই গ্রেফতারের জন্য ভয়ও পাননি তিনি। কিন্তু বিজেপি ভয় পেয়েছে। এটা পরিষ্কার হচ্ছে।
লাদাখ একটি তপশিলি জনজাতি অধ্যুষিত কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল। এটি আগে ছিল জম্মু-কাশ্মীরের অন্তর্গত। এখন সেটিকে আলাদা করে কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল করা হয়েছে। ২০১৯ এ নির্বাচনের আগে বিজেপির প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল, এটিকে সংবিধানের ষষ্ঠ তফসিলের অন্তর্গত করা হবে, এবং একটি রাজ্য হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হবে।
অনেকগুলি বছর পেরিয়ে গেছে। কিন্তু সেই স্বীকৃতি এই রাজ্য পায়নি। সেখানকার মানুষ, তারা বঞ্চনার শিকার। সেই কথা বারবার বলা হয়েছে। প্রতিবাদ করা হয়েছে। হয়েছে অনশন। এই প্রতিবাদ শুধু সাধারণ মানুষ করেছে তাই নয়, বিজেপির নির্বাচিত প্রতিনিধি জামিয়াং শেরিং নামগিয়ালও এই প্রতিবাদে সামিল হয়েছেন। কিন্তু কোন কাজ হয়নি। উল্টে তার জন্যে পরবর্তী নির্বাচনে বিজেপির বিজয়ী প্রার্থী শিরিন নামগিয়ালকে সরিয়ে নতুন প্রার্থী মোহাম্মদ হানিফাকে প্রার্থী করে জিতিয়ে আনা হয়েছে।
এরপরেও লাদাখের আন্দোলন চুপ করে থাকেনি। বিজেপি সাংসদ মোঃ হানিফা জানিয়েছেন, লাদাখে তপশিলি জনজাতির মানুষের বাস। তাই লাদাখকে ষষ্ঠ তফসিলের অন্তর্ভুক্ত করা উচিত। যাতে জনজাতির মানুষের সমস্ত অধিকার সুরক্ষিত থাকে।
এই ঘটনায় প্রতিবাদ জানিয়েছে প্রাক্তন সাংসদ নামগিয়াল। তিনি উপরাজ্যপালকে চিঠি লিখে জানিয়েছেন, নিরস্ত্র আন্দোলনকারীদের উপরে গুলি চালানোর ফলে মানুষের আস্থা নড়ে গিয়েছে। এর উপযুক্ত তদন্ত প্রয়োজন।
কেন্দ্র সেই পথে হাঁটেনি। উল্টে লাদাখের আন্দোলনকারীদের উপরে সেনা দিয়ে গুলি চালিয়েছে। নিহত হয়েছে চার জন সাধারণ মানুষ। তা নিয়ে কোন তদন্ত নেই। উল্টে গ্রেপ্তার হলেন সমাজকর্মী সোনম ওয়ানচুক। এই ঘটনায় প্রতিবাদ জানিয়েছে প্রাক্তন সাংসদ নামগিয়াল। তিনি উপরাজ্যপালকে চিঠি লিখে জানিয়েছেন, নিরস্ত্র আন্দোলনকারীদের উপরে গুলি চালানোর ফলে মানুষের আস্থা নড়ে গিয়েছে। এর উপযুক্ত তদন্ত প্রয়োজন।
আসলে মানুষের প্রতিবাদকে এখন কেন্দ্রীয় শাসকরা ভয় পেতে শুরু করেছে। আর সেই জন্যেই একজন ম্যাগসেসাই পুরস্কারপ্রাপ্ত সমাজসেবী এবং বিজ্ঞানীকে জাতীয় নিরাপত্তা আইনে বন্দী করা হচ্ছে। সর্বস্তরে প্রতিবাদ হতে শুরু করেছে। আর সবচেয়ে মজার ব্যাপার লাদাখের আদিবাসী মানুষের উপরে গুলি চালানোর নৃশংস ঘটনা ঘটানোর পরেও দেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ পশ্চিমবঙ্গে দুর্গাপুজোর উদ্বোধনে ব্যস্ত। যা আসলে ২০২৬ এর একটি নির্বাচনী প্রচার বলেই সাধারণ মানুষ মনে করছেন। আবার বিহারে নির্বাচনী প্রচারে তিনি ঘুরে বেড়াচ্ছেন।
প্রশ্ন উঠছে তিনি দেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী, না বিজেপির নির্বাচনী প্রচারক? এই রাজতন্ত্র বন্ধ হওয়া প্রয়োজন।
সাধারণ মানুষের দাবি, আমরা গণতন্ত্রে ফিরতে চাই। সাধারণ মানুষের মতকে সম্মান জানানো আজ অনেক বেশি প্রয়োজন।
প্রশ্ন উঠছে, পাবলিক সার্ভেন্টরা আর পাবলিককে কতদিন সার্ভেন্ট বানিয়ে দেশ চালাবেন?

