কৃষ্ণেন্দুর একটি খাতা পুলিশকে দিয়েছি। তাও পুলিশ কেন এমন বলছে জানি না।
"কৃষ্ণেন্দুর একটি খাতা পুলিশকে দিয়েছি। তাও পুলিশ কেন এমন বলছে জানি না।
গত ১৮ মে সিভিক কর্মী শুভঙ্কর দীক্ষিতের দোকান থেকে কৃষ্ণেন্দু দাস নামে সপ্তম শ্রেণিতে পাঠরত এক বালক 'কুরকুড়া'র প্যাকেট চুরি করেছে -- এই অভিযোগ ওঠে। এই অভিযোগে তাকে মারধর এবং কান ধরে ওঠবস করানো হয় বলে অভিযোগ। কথা কানে যেতেই তার মাও তাকে চড় মারেন। অপমানে সেদিনই কীটনাশক পান করে কৃষ্ণেন্দু আত্মহত্যার চেষ্টা করে। ২২ মে তার মৃত্যু হয়।
কিন্তু চুরির অভিযোগ বিষয়ে সন্দেহ দানা বাধে যখন কৃষ্ণেন্দু দাসের লেখা চিঠি (সুইসাইড নোট) সামনে আসে। স্বাভাবিক ভাবেই স্থানীয় থানায় অভিযোগ দায়ের হয় ২৫ মে, রবিবার। কৃষ্ণেন্দুর মৃত্যুর পরেই পুলিশ অস্বাভাবিক মৃত্যুর মামলা রুজু করে। ওই 'সুইসাইড নোট'-এর কথাও তখনই পরিবারের তরফে জানানো হয়েছিল। সংবাদমাধ্যম ও সমাজমাধ্যমে সেই চিরকুটের ছবি ছড়ায়। কিন্তু এত দিনেও পুলিশ সেই চিরকুট হেফাজতে নিয়ে হাতের লেখা পরীক্ষা করায়নি বলে অভিযোগ।
কী লিখেছিল 'সুইসাইড নোটে?
স্কুলছাত্র কৃষ্ণেন্দু দাস মাকে বলার পাশাপাশি, 'সুইসাইড নোট'-এ লিখেছিল যে, সে চিপস চুরি করেনি। পথে কুড়িয়ে পেয়েছিল। মায়ের আক্ষেপ 'কেন ওভাবে মারতে গেলাম। ছেলেটা আমার অনেক কষ্ট পেয়ে চলে গেল।"
মা আমি বলে যাচ্ছি যে আমি কুড়কুড়াটি রাস্তার ধারে কুড়িয়ে পেয়েছিলাম চুরি করিনি
--- কৃষ্ণেন্দু দাস
কিন্তু অভিযোগ হল, পূর্ব মেদিনীপুরের পাঁশকুড়ার এই কিশোরের অস্বাভাবিক মৃত্যুর চার দিন পরেও পুলিশ নিশ্চিত হতে পারেনি যে ওই 'সুইসাইড নোট'-এর হাতের লেখা কৃষ্ণেন্দুরই কি না। চিরকুটটির হাতের লেখা যাচাইয়ের কাজ পুলিশের তরফে শুরুই করা হয়নি বলে অভিযোগ। তবে এ ব্যাপারে পুলিশ আধিকারিকদের বক্তব্য মেলেনি। ঘটনায় এখনও কেউ গ্রেফতারও হয়নি।
পূর্ব মেডিনিপুরের পুলিশ সুপার
তবে পূর্ব মেডিনিপুরের পুলিশ সুপার জানান, অভিযোগ দায়েরের পরে, ওই 'সুইসাইড নোট' খতিয়ে দেখা হচ্ছে। কিন্তু পরবর্তীতে পুলিশের দাবি করে, কৃষ্ণেন্দুর হাতের লেখা মেলানোর কাজে তার পরিবার সহযোগিতা করছে না। কৃষ্ণেন্দুর স্কুলের খাতা চাওয়া হয়েছিল। কিন্তু বাড়ির লোকেরা তা দিতে চাননি। গরমের ছুটি শেষে, কৃষ্ণেন্দুর স্কুল খুললে, সেখান থেকে এই ছাত্রের খাতা সংগ্রহের পরিকল্পনা করছে পুলিশ।
কেন ওভাবে মারতে গেলাম। ছেলেটা আমার অনেক কষ্ট পেয়ে চলে গেল।"
কৃষ্ণেন্দুর মা সুমিত্রার পাল্টা দাবি, "সোমবারই কৃষ্ণেন্দুর একটি খাতা পুলিশকে দিয়েছি। তাও পুলিশ কেন এমন বলছে জানি না।" সিভিক কর্মী শুভঙ্কর দীক্ষিত-সহ মোট চার জনের বিরুদ্ধে সুমিত্রা রবিবার অভিযোগ করেছেন। তবে সোমবার রাত পর্যন্ত কেউ গ্রেফতার হয়নি।

