শিক্ষা, স্বাস্থ্য, কর্মসংস্থান, না নাগরিকত্ব কোনটা জরুরী !
নির্বাচন কমিশন যাদেরকে ভোটার কার্ড ইস্যু করেছে, সেই নির্বাচন কমিশন বলছে তারা ভোটার কার্ডকে মান্যতা দেবে না!
--- পীযূষ গায়েন
শিক্ষা স্বাস্থ্য কর্মসংস্থান না নাগরিকত্ব কোনটা জরুরী !
অর্থ থাকলেই পৃথিবীর কোন না কোন দেশে নাগরিকত্ব খুব সহজেই পাওয়া যায় । কিন্তু দরিদ্র, শ্রমজীবী মানুষ তাদের নাগরিকত্ব নিয়েই প্রশ্ন । তাদের কোন দেশ নাগরিকত্ব দেবে ? তাদেরকে দাস শ্রমিক করেই রাখতে চায় সবাই ! বিশেষ করে ভারতের তপশিলি এবং অনগ্রসর সমাজের মানুষদের আজ সেই রকম অবস্থা দাঁড়িয়েছে ।
নাগরিকত্ব - আসলে অর্থনৈতিক শোষণের আর একটি নাম ।
মূলনিবাসী পার্টি তথা অন্যান্য আম্বেদকরপন্থী গণতান্ত্রিক দলের কাছে বহু জেলা থেকে সাধারণ মানুষ অনেক প্রশ্ন করে চলেছে, তাদের অসহায় অবস্থার কথা তারা ভাবতে শুরু করেছে। মূলনিবাসী ফ্রন্ট এ বিষয়ে জনগণকে সচেতন করার উদ্যোগ নিয়েছে।
এদেশে কত রকম কার্ড তৈরি করতে হয় তার একটা প্রতিযোগিতা চলছে। আপনি পয়সা খরচা করলে বাড়িতে কার্ড চলে আসবে। আর যাদের পয়সা নেই, তারা ঘন্টার পর ঘন্টা লাইনে দাঁড়িয়ে কখনো ভোটার কার্ড, কখনো আধার কার্ড, কখনো রেশন কার্ড তৈরি করতে হয়েছে ।
সেখানেই শেষ নয়, ফোন নাম্বার-আধার কার্ডের সঙ্গে লিংক করার জন্যও পয়সা ব্যয় করতে হচ্ছে। লাইন দিতে হচ্ছে, হাজার ঝামেলা সইতে হচ্ছে ।
এখন শোনা যাচ্ছে, আধার কার্ড, ভোটার কার্ড, রেশন কার্ড সেগুলো নাকি মূল্যহীন নির্বাচন কমিশনের কাছে ।
অথচ নির্বাচন কমিশন ইস্যু করেছে এই ভোটার কার্ড। তাদের ইস্যু করা কার্ড, তারাই মানতে চাইছে না ।
পাবলিক সার্ভেন্টরা পাবলিককে হুকুম করছে নাগরিকত্ব প্রমাণ করার জন্য ।
যারা করছে, তাদের নাগরিকত্বের প্রমাণ তারা কার কাছে দেবে ?
শ্রমজীবী মানুষ, যারা দেশের জিডিপি উৎপাদনকারী, তাদের নাগরিকত্ব নিয়েই সবচেয়ে বেশি সমস্যা তৈরি করা হচ্ছে! দেশের উন্নতি তো বাধা প্রাপ্ত হবেই।
আবার এদেশের ইন্টেলেকচুয়ালরা তারা এদেশ থেকে বড় বড় ডিগ্রী নিয়ে বিদেশে গিয়ে তাদের নাগরিকত্ব নিয়ে নিচ্ছে।
সেই দেশ নিজেদের উন্নতির কথা চিন্তা করে তাদের নাগরিকত্ব দিয়ে দিচ্ছে ।
বর্তমানে ভারতে - দেশের উন্নতি প্রশ্ন নয়; মানুষের স্বল্পায়ু জীবনে কে কোন দেশের নাগরিক, ভারতে আজ সেই কাজে বেশি সময়, শ্রম, অর্থ ব্যয় হচ্ছে।
নির্বাচন কমিশন যাদেরকে ভোটার কার্ড ইস্যু করেছে, সেই নির্বাচন কমিশন বলছে তারা ভোটার কার্ডকে মান্যতা দেবে না। এই ক্ষেত্রে পাবলিক সার্ভেন্টরা পাবলিককে হুকুম করতে পারে না যে তোমার নাগরিকত্ব তোমাকে প্রমাণ করতে হবে ।
এই ক্ষেত্রে পাবলিক সার্ভেন্টরা পাবলিককে হুকুম করতে পারে না যে তোমার নাগরিকত্ব তোমাকে প্রমাণ করতে হবে ।যদি কারো নাগরিকত্ব নিয়ে প্রশ্ন দেখা দেয়, সেই ক্ষেত্রে নির্বাচন কমিশন যথাযথ তদন্ত করে উপযুক্ত প্রমাণ পেলে, তবেই তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে পারে, এটাই হওয়া উচিত ।
ক্ষমতার দম্ভ দেখিয়ে যদি কোন অসৎ অফিসারদের দ্বারা অসৎ উপায়ে কাউকে ভোটার কার্ড, আধার কার্ড, রেশন কার্ড দেওয়া হয়ে থাকে; তাহলে যে সমস্ত অফিসাররা এই ভোটার কার্ড ইস্যু করেছেন, আগে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া দরকার। আর এর জন্য নিশ্চয়ই সাধারণ মানুষ দায়ী নয়। কোটি কোটি টাকা খরচ করে এত সরকারি অফিসার, এত পুলিশ, এত আইবি, সিবিআই, বিএসএফ এদের পিছনে অর্থ ব্যয় করার দরকারটাই বা কি? আম্বেদকরপন্থী মূলনিবাসী ফ্রন্টের প্রতিনিধিরা এ বিষয়ে সাধারণ মানুষকে সচেতন করতে এগিয়ে আসছেন।
বিষয়টি অন্য দিক দিয়ে একটু ভাবা দরকার ।
আসল বিষয়টা অর্থনীতির !!!
আজকের পৃথিবীতে যাদের টাকা আছে, তাদের কোন দেশের নাগরিকত্ব পাওয়া খুব কঠিন ব্যাপার নয় ।
বলা যেতে পারে খুবই সহজ ব্যাপার।
সমস্যা কাদের? যাদের টাকা নেই। যারা শ্রমজীবী মানুষ, যারা প্রান্তিক শ্রেণীর মানুষ । যারা একদিন কাজ না করলে, তাদের উনুন জ্বলে না। তাদেরই আজ নাগরিকত্ব নিয়ে প্রশ্ন। কাগজ নিয়ে সমস্যা। নাগরিকত্বের প্রমাণপত্র নিয়ে সমস্যা! এরা বেশিরভাগ আদিবাসী, তপশিলি, অনগ্রসর সমাজের মানুষ আর এদের বেশিরভাগ মানুষ শিক্ষা থেকে থেকেছে অনেক দূরে। স্কুল পাশের কোন সার্টিফিকেট নেই বহু মানুষের কাছে। জন্ম সার্টিফিকেট নেই তো বলছে স্কুল সার্টিফিকেট দেখাও। স্কুলেই যায়নি তো স্কুল লিভিং সার্টিফিকেট দেখাবে কোথা থেকে? জমি নেই, অন্যের জমিতে চাষ করে। তাহলে জমির দলিল দেখাবে কি করে? পেটে গামছা বেঁধে আধার কার্ড, ভোটার কার্ড, রেশন কার্ড পেতে লাইনে দাঁড়াতে হয়েছে দিনের পর দিন। আর সেটা জোগাড় করার পরে এখন বলছে সেটা চলবে না ।
হিন্দু -মুসলমান, এনআরসি, সিএএ, নাগরিকত্ব -- এগুলো এক একটা ইস্যু তৈরি করা হয়েছে। আসল গল্প হচ্ছে এদেশের খনিজ সম্পদ, রাষ্ট্রীয় কলকারখানা, জমি এগুলো একের পর এক ব্যক্তি মালিকের হাতে তুলে দেওয়া হচ্ছে। সাধারণ মানুষের সম্পদ ব্যক্তি মালিকানার হাতে তুলে দেয়া হয়েছে। সাধারণ মানুষের এ বিষয়ে কোন ধ্যান-ধারণা নেই ।
আর বহু শিল্পপতি এদেশের সম্পদ লুট করে বিদেশে পয়সা দিয়ে নাগরিকত্ব নিয়ে নিয়েছে ।
ভারতের দরিদ্র মানুষেরা যদি এদেশে তাদের নাগরিকত্ব প্রমাণ করতে না পারে, তাদের কি উপায় আছে অন্য কোন দেশে যাওয়ার? না, নেই। কারণ, তাদের সে আর্থিক ক্ষমতা নেই।
----------------xx----------------

