SIR : সাধারণ মানুষ কেন হয়রানির শিকার হবে?
SIR : সাধারণ মানুষ কেন হয়রানির শিকার হবে?
পীযূষ গায়েন
সরকারি ব্যবস্থায় সংগঠিত মেশিনারি থাকা সত্ত্বেও তারাই কাগজ খুঁজে পাচ্ছে না । ২০০২ সালের ভোটার লিস্ট দেওয়া হয়েছে। কিন্তু এক এক জায়গায় তার অনেক গরমিল পাওয়া যাচ্ছে। নির্বাচন কমিশন বলছে কিছু কিছু কাগজ কয়েকটি জেলা থেকে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না ।বলা হচ্ছে বিদেশী অনুপ্রবেশ! ভালো কথা, BSF থেকে বিদেশ দপ্তর। রাজ্য সরকার। সরকারের অনেক বিভাগ আছে এই বিষয়টি দেখার। ডিজিটাল যুগে, যেখানে আধারের সঙ্গে সবকিছু লিংক করানো হচ্ছে, সেখানে এই তথ্য সরকার চাইলেই সহজে জোগাড় করে নিতে পারে। তাহলে সাধারণ মানুষের এত হয়রানি কেন? এতদিন এই কাজ করা হয়নি কেন?
আর দরিদ্র, গরিব, আদিবাসী, তপশিলি জাতি, অনগ্রসর শ্রেণী অশিক্ষার অন্ধকারে ডুবে থাকা মানুষ, তাদের কাছে একের পর এক নথি চাওয়া হবে কেন !
১৯৮৭ সালের আগের নথি? বিস্ময়কর! তাও আবার সরকারি নথি। সাধারণ মানুষের কাছে সরকারি নথি বলতে এতদিন জেনে এসেছে রেশন কার্ড, ভোটার কার্ড, সদ্য যুক্ত হয়েছে আধার কার্ড! অথচ এগুলোই গ্রহণ করা হবে না ।
আর দরিদ্র, গরিব, আদিবাসী, তপশিলি জাতি, অনগ্রসর শ্রেণী অশিক্ষার অন্ধকারে ডুবে থাকা মানুষ, তাদের কাছে একের পর এক নথি চাওয়া হবে কেন !মজার ব্যাপার যে নির্বাচন কমিশন ভোটার কার্ড দিয়েছে সেই ভোটার কার্ড তারাই মান্যতা দিচ্ছে না। তাহলে যে দুর্নীতিবাজরা এই ভুল ভোটার কার্ড দিয়েছে তাদের আগে চিহ্নিত করা হোক ।
কজন লোক সরকারি চাকরি করতো? একটা উদাহরণ দেওয়া যাক-
একজন যদি বাইরে থেকে এসে ২৮ বছর বয়সে ১৯৯০ সালে সরকারি চাকরিতে ঢোকে তাহলে সে ২০২২-এ তার রিটায়ারমেন্ট হয়ে গেছে। তার কাছে কিন্তু সরকারি নথি আছে।
আসল সমস্যা এত বছর পরে এত পুরনো কাগজপত্র চাওয়া! এটা সম্পূর্ণ রাষ্ট্রীয় পরিকল্পনায় ব্যর্থতা !স্বাধীনতার ৭৮ বছর পরে আজও বহু জায়গার মানুষের প্রতি বছর ঝড়ে বা বন্যায় তাদের ঘর উড়ে যায় ; ভেসে যায়। শিক্ষার অন্ধকারে ডুবে আছে কোটি কোটি মানুষ। কোনটা কিসের কাগজ সে সম্বন্ধে তাদের কোন ধারণাই নেই। তাদেরকে ভুল বুঝিয়ে চিরকাল সবকিছু হাতিয়ে নিচ্ছে কিছু মানুষ ।
এমনকি তাদের একটি ভোটের মূল্য বুঝতে না দিয়ে, ভোটটাও লুট করছে এদেশের দুর্নীতিবাজ মানুষেরা। এখন যেন এমন না হয়, কাগজ চাওয়ার নামে তাদের ভোটারের অধিকারটুকু কেড়ে নেওয়া হতে পারে ।
এতদিন যারা দেশ চালাচ্ছে, তারা কি ঘুমিয়ে ছিল? আসল উদ্দেশ্য হয়রানি করা! এটাই ব্রাহ্মণ্যবাদী ব্যবস্থা !
মানুষের প্রধান সমস্যা -শিক্ষা',স্বাস্থ্য, কর্মসংস্থান, আর্থিক বৈষম্য, শিল্পপতিদের হাতে একের পর এক রাষ্ট্রীয় তথা জনগণের সম্পত্তি হস্তান্তরণ জনগণকে অন্ধকারে রেখে। এইসব বিষয়গুলোকে ধামাচাপা দিতে একের পর এক নতুন নতুন বিষয় নিয়ে আসা হচ্ছে। জনসাধারণকে ব্যতিব্যস্ত রাখার নতুন নতুন পরিকল্পনা তৈরি করে ।
সরকারি ব্যবস্থায় যে কাজগুলো হওয়ার দরকার ছিল, তা কিন্তু হয়নি, যেমন ২০২১ সালে জনগণনা ! জনগণনা না করেই এসআইআর শুরু হয়ে যাচ্ছে ।
এবারের জনগণনা না হওয়ার পিছনে বা বছরের পর বছর পিছিয়ে যাওয়ার কারণ সারা দেশে যে দাবি উঠেছিল জনগণনার সাথে জাতি গণনা করতে হবে। তার কারণ ছিল এদেশের বর্ণহিন্দু সংখ্যালঘু জাতি, সংখ্যাগরিষ্ঠকে অর্থনৈতিকভাবে, সামাজিকভাবে, সাংস্কৃতিকভাবে যে শোষণ চালিয়ে আসছে তা যাতে সামনে আসে। আর সেই জনগণনা বছরের পর বছর পিছিয়ে দেওয়া হচ্ছে এই কারণে যে এখান থেকে যে তথ্য উঠে আসবে তার ফলে সারাদেশে যে আওয়াজ উঠবে তা হল - "যার যত সংখ্যাভারী, তার তত ভাগেদারি" ।
১৯৮০ সাল থেকে ২০২১ সাল পর্যন্ত প্রতিবেদনে দেখা যাচ্ছে ১০% মানুষের আয় অত্যধিক বাড়লেও ৯০% মানুষের আয় অত্যধিক কমেছে। আরও একটি মজার ব্যাপার, সরকারি স্কুলের শিক্ষাব্যবস্থাকে ধ্বংস করে দিয়ে শিক্ষকদের এই কাজে লাগানো হচ্ছে। সরকারি শিক্ষা ব্যবস্থাকে একেবারে তলানিতে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। সবার আগে এই ব্যবস্থা বন্ধ করা দরকার। শিক্ষিত বেকারদের এই কাজে নিয়োজিত করা যেতেই পারে।
সবচেয়ে ভালো হতো এমপ্লয়মেন্ট এক্সচেঞ্জ থেকে নাম নিয়ে - এদেরকে কাজে লাগানো যেতে পারত। কিন্তু মজার ব্যাপার বাবাসাহেব আম্বেদকরের স্বপ্নের এমপ্লয়মেন্ট এক্সচেঞ্জ এখন আর দূরবীন দিয়েও খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। তবে শিক্ষিত বেকারদের খুঁজে পাওয়া খুব সমস্যা নয় এই ডিজিটাল যুগে। যারা বিভিন্ন সময় চাকরির আবেদন করেছে তাদেরকে এখানে কাজে লাগানো যেতে পারত।
পাবলিক সার্ভেন্টদের দায়িত্ব - যদি কোন ভুয়ো ভোটার, মৃত ভোটারের লিস্টে নাম থাকে, তাদের চিহ্নিত করে তাদের তালিকা থেকে বাদ দেওয়া উচিত। সে দায়িত্ব সরকারি কর্মচারীদের। আধারের সঙ্গে ভোটার লিস্টের সংযুক্তিকরণ করলে সেটি খুব সহজেই হয়ে যেত।
এই ডিজিটাল যুগে যেখানে আধার তৈরি হয়ে গেছে, খুব সহজেই এদের সম্বন্ধে তথ্য সরকারের পেয়ে যাওয়া উচিত। তাহলে এত ঢাক ঢোল পিটিয়ে সাধারণ মানুষকে বিভ্রান্ত করে ব্যতিব্যস্ত করে টেনশন দিয়ে এই কাজ কেন ?
এই কাজগুলো নীরবে ইলেকশন কমিশন করে নিতে পারে। আসলে মনে হচ্ছে এটাও এক ধরনের নির্বাচনী প্রচার - কেন্দ্রীয় ও রাজ্য সরকারের সম্মিলিতভাবে।
পাবলিককে অযথা হয়রানি করার কোন অধিকার কি আছে পাবলিক সার্ভেন্টদের? আর তা যদি হয় তার জন্য দায়ী থাকবে সেই সমস্ত পাবলিক সার্ভেন্টরা। তারা জনগণের সেবা দেওয়ার পরিবর্তে জনগণের কাছ থেকে সেবা নেওয়া শুরু করে দিয়েছে।
সাধারণ মানুষের গণতান্ত্রিক চেতনা না থাকার জন্য এই ঘটনাগুলো ঘটে চলেছে!
মানুষের প্রধান সমস্যা -শিক্ষা',স্বাস্থ্য, কর্মসংস্থান, আর্থিক বৈষম্য, শিল্পপতিদের হাতে একের পর এক রাষ্ট্রীয় তথা জনগণের সম্পত্তি হস্তান্তরণ জনগণকে অন্ধকারে রেখে। এইসব বিষয়গুলোকে ধামাচাপা দিতে একের পর এক নতুন নতুন বিষয় নিয়ে আসা হচ্ছে। জনসাধারণকে ব্যতিব্যস্ত রাখার নতুন নতুন পরিকল্পনা তৈরি করে ।
সরকারি ব্যবস্থায় যে কাজগুলো হওয়ার দরকার ছিল, তা কিন্তু হয়নি, যেমন ২০২১ সালে জনগণনা ! জনগণনা না করেই এসআইআর শুরু হয়ে যাচ্ছে ।
এবারের জনগণনা না হওয়ার পিছনে বা বছরের পর বছর পিছিয়ে যাওয়ার কারণ সারা দেশে যে দাবি উঠেছিল জনগণনার সাথে জাতি গণনা করতে হবে। তার কারণ ছিল এদেশের বর্ণহিন্দু সংখ্যালঘু জাতি, সংখ্যাগরিষ্ঠকে অর্থনৈতিকভাবে, সামাজিকভাবে, সাংস্কৃতিকভাবে যে শোষণ চালিয়ে আসছে তা যাতে সামনে আসে। আর সেই জনগণনা বছরের পর বছর পিছিয়ে দেওয়া হচ্ছে এই কারণে যে এখান থেকে যে তথ্য উঠে আসবে তার ফলে সারাদেশে যে আওয়াজ উঠবে তা হল - "যার যত সংখ্যাভারী, তার তত ভাগেদারি" ।
১৯৮০ সাল থেকে ২০২১ সাল পর্যন্ত প্রতিবেদনে দেখা যাচ্ছে ১০% মানুষের আয় অত্যধিক বাড়লেও ৯০% মানুষের আয় অত্যধিক কমেছে। আরও একটি মজার ব্যাপার, সরকারি স্কুলের শিক্ষাব্যবস্থাকে ধ্বংস করে দিয়ে শিক্ষকদের এই কাজে লাগানো হচ্ছে। সরকারি শিক্ষা ব্যবস্থাকে একেবারে তলানিতে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। সবার আগে এই ব্যবস্থা বন্ধ করা দরকার। শিক্ষিত বেকারদের এই কাজে নিয়োজিত করা যেতেই পারে।
সবচেয়ে ভালো হতো এমপ্লয়মেন্ট এক্সচেঞ্জ থেকে নাম নিয়ে - এদেরকে কাজে লাগানো যেতে পারত। কিন্তু মজার ব্যাপার বাবাসাহেব আম্বেদকরের স্বপ্নের এমপ্লয়মেন্ট এক্সচেঞ্জ এখন আর দূরবীন দিয়েও খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। তবে শিক্ষিত বেকারদের খুঁজে পাওয়া খুব সমস্যা নয় এই ডিজিটাল যুগে। যারা বিভিন্ন সময় চাকরির আবেদন করেছে তাদেরকে এখানে কাজে লাগানো যেতে পারত।
পাবলিক সার্ভেন্টদের দায়িত্ব - যদি কোন ভুয়ো ভোটার, মৃত ভোটারের লিস্টে নাম থাকে, তাদের চিহ্নিত করে তাদের তালিকা থেকে বাদ দেওয়া উচিত। সে দায়িত্ব সরকারি কর্মচারীদের। আধারের সঙ্গে ভোটার লিস্টের সংযুক্তিকরণ করলে সেটি খুব সহজেই হয়ে যেত।
এই ডিজিটাল যুগে যেখানে আধার তৈরি হয়ে গেছে, খুব সহজেই এদের সম্বন্ধে তথ্য সরকারের পেয়ে যাওয়া উচিত। তাহলে এত ঢাক ঢোল পিটিয়ে সাধারণ মানুষকে বিভ্রান্ত করে ব্যতিব্যস্ত করে টেনশন দিয়ে এই কাজ কেন ?
এই কাজগুলো নীরবে ইলেকশন কমিশন করে নিতে পারে। আসলে মনে হচ্ছে এটাও এক ধরনের নির্বাচনী প্রচার - কেন্দ্রীয় ও রাজ্য সরকারের সম্মিলিতভাবে।
পাবলিককে অযথা হয়রানি করার কোন অধিকার কি আছে পাবলিক সার্ভেন্টদের? আর তা যদি হয় তার জন্য দায়ী থাকবে সেই সমস্ত পাবলিক সার্ভেন্টরা। তারা জনগণের সেবা দেওয়ার পরিবর্তে জনগণের কাছ থেকে সেবা নেওয়া শুরু করে দিয়েছে।
সাধারণ মানুষের গণতান্ত্রিক চেতনা না থাকার জন্য এই ঘটনাগুলো ঘটে চলেছে!

