26শে November সংবিধান দিবস
সংবিধান গৃহীত হওয়ার ৭৬ বছর
পীযূষ গায়েন
একটু ফিরে দেখা যাক কি পেলাম আমরা!১) পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ সম্পদ মানবসম্পদ । ভারত সেই মানবসম্পদকে ব্যবহার করতে ব্যর্থ হয়েছে । মানুষ কাজ করতে চাইছে রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থা তাকে কাজ দিতে ব্যর্থ হচ্ছে ।
২) অর্থনৈতিক রাজতন্ত্র চলছে । কয়েকজন মানুষের হাতে লক্ষ লক্ষ কোটি টাকার সম্পদ । যারা রাষ্ট্রকেও নিয়ন্ত্রণ করতে পারে এবং করছেও ।
এক দল লোকের হাতে অর্থনৈতিক জঞ্জাল তৈরি হচ্ছে অপ্রয়োজনীয় অর্থ জমিয়ে । আর দরিদ্রদের কথা তো বলার অপেক্ষা রাখে না । মধ্যবিত্তদের জাতীয় আয় থেকে তাদের শেয়ার অনেক কমে গেছে । তারা নিম্নবিত্ত এবং দরিদ্র শ্রেণীতে পরিণত হতে চলেছে ।
৩) মানুষের প্রধান সম্পদ শিক্ষা ও স্বাস্থ্য । যা সম্পূর্ণ হওয়া উচিত ছিল রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থায় ।
কিন্তু বর্তমানে শিক্ষা ও স্বাস্থ্যের বাজারীকরণ হয়েছে । যে কিনতে পারবে শিক্ষা ও স্বাস্থ্য তার !
মানবসম্পদ নির্মাণ করতেও রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থা ব্যর্থ হয়েছে ।
ভারত ধনী, ভারতীয়রা গরীব !
দেশের পরিচালকরা যদি দেশের মানুষ তথা মানবসম্পদকে কাজে না লাগাতে পারে তাহলে রাষ্ট্রের উন্নতি অসম্ভব ।
৪) আপনার অঞ্চলে স্কুল হবে, কলেজ হবে, হাসপাতাল হবে, জলের লাইন হবে, এটাই সবচেয়ে বড় সামাজিক কাজ ।
এই কাজ করতে পারেন নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি।
অর্থাৎ নির্বাচনী ব্যবস্থায় যোগদান সবচেয়ে বড় সামাজিক কাজ ।
এ বিষয়টা আজও এদেশে জনগণ বুঝতে পারেনি ।
৫) ভোটাররা ঘুষ খায় ।
জনসাধারণ বুঝতে পারেনি তাদের একটি ভোটের মূল্য কোটি টাকা । তাই তারা দুশো টাকা, ৫০০ টাকা, ৫০০০ টাকা কিংবা মদের বোতল নিয়ে ঘুষ খেয়ে ভোট দিচ্ছে ।
৬) সমস্যাগুলোকে আড়াল করার জন্য নতুন নতুন ইস্যু তৈরি করা হচ্ছে । এখন বিদেশি একটা ইস্যু তৈরি করা শুরু হয়েছে।
৭) একজন গর্ভবতী মহিলা সহ ৬ জন ভারতীয় নাগরিককে কোন তদন্ত ছাড়াই বাংলাদেশে পুশ ব্যাক করা হয়েছে ।
হাইকোর্টের আদেশ সত্বেও তাদের ফিরিয়ে আনা হচ্ছে না ।
সরকার নিজের কাজের সমর্থন করে সুপ্রিম কোর্টে গেছে ।
সুপ্রিম কোর্টে তাদের ফিরিয়ে আনার কথা বলা হচ্ছে । অথচ এখনো নিয়ে আসা হয়নি । যারা অন্যায় ভাবে পাঠিয়েছে সেইসব পাবলিক সার্ভেন্টের শাস্তির কথা বিবেচনাই করা হয়নি।
৮) একটা ভালো গাড়ি খারাপ ড্রাইভারের হাতে দিলে কি অবস্থা হবে ? আমাদের দেশের সংবিধানের অবস্থা আজ সেই জায়গায় পৌঁছেছে ।
আমরা এদেশের সংবিধান মেনে চলি ।
আমাদের দেশের সংবিধানের প্রস্তাবনাতে লেখা আছে -প্রথম তিনটি শব্দ ও শেষ তিনটি শব্দ খুব গুরুত্বপূর্ণ ।
"আমরা ভারতের জনগণ ----------নিজেদেরকে অর্পণ করছি ।"
তাহলে আমরা কি আমাদের কাজ সঠিকভাবে করছি ?
এক শতাংশ মানুষ দেশের সম্পদের বেশিরভাগটা নিজেদের কব্জায় নিয়ে রেখে দিয়েছে ।
অস্বাভাবিক সম্পদের বৈষম্য -
সৃষ্টি করছে ক্ষমতার বৈষম্য !
এই অস্বাভাবিক সম্পদ যাদের কুক্ষিগত হয়েছে -তারাই মূলত পিছন থেকে নিয়ন্ত্রণ করছে এদেশের নির্বাচনী ব্যবস্থা ।
তাদের ইশারায় সবকিছু সংঘটিত হচ্ছে ।
আমরা বাইরে যা দেখছি আর ভিতরে যে রাসয়নিক বিক্রিয়া চলছে সেটা আমরা সবটা দেখতে পাচ্ছি না ।
তাই আমাদের বিশ্লেষণ করতে সমস্যা তৈরি হচ্ছে ।
-সঠিকভাবে বিশ্লেষণ করতে পারছি না ।
আমাদের দেশের যা সম্পদ তাতে ঘরে ঘরে প্রতিটি মানুষদের কিছু না কিছু কাজ দেওয়া যায় ।
সরকারি ব্যবস্থায় সংগঠিত মেশিনারি থাকা সত্ত্বেও তারাই কাগজ খুঁজে পাচ্ছে না ।
আর দরিদ্র, গরিব, আদিবাসী, তপশিলি জাতি, অনগ্রসর শ্রেণী অশিক্ষার অন্ধকারে ডুবে থাকা মানুষ, তাদের কাছে একের পর এক নথি চাইছে !
১৯৮৭ সালের আগের নথি ? বিস্ময়কর !
কারণ মূল সমস্যা থেকে সরিয়ে দেওয়া ।
আরো মজার ব্যাপার ২০২১ এ জনগণনা হওয়ার কথা, হলো না । সে বিষয়ে সবাই নীরব ।
জনগণনা করে এসআইআর করা উচিত ছিল । শুধু দিন পিছিয়ে যাচ্ছে ।
তার পিছনে আর একটি বড় কারণ এবারের জনগণনায় - জাতি গননা হবে ! যেটা ব্রাহ্মণ্যবাদী ব্যবস্থা একেবারেই চাইছে না ।
জাতি গণনা হলেই সারা ভারতে যে আওয়াজ উঠবে তা হল -যার যত সংখ্যা ভারী তার তত ভাগেদারি ।
এদেশে সংখ্যালঘু জাতির মানুষেরা সংখ্যাগুরুর উপরে অর্থনৈতিক, সামাজিক, সাংস্কৃতিক শোষণ চালিয়ে যাচ্ছে, সেটা আরো বেশি করে প্রমাণিত হবে ।
এতদিন পরে ১৯৮৭ সালের নথি চাইছে ! কতজন দরিদ্র তপশিলি জনজাতি,
বন্যায় ভেসে যাওয়া ঘর বাড়ির মানুষেরা,
শিক্ষার অন্ধকারে ডুবে থাকা মানুষ -
এই নথি দেখাতে পারবে ?
এতদিন যারা দেশ চালাচ্ছে, তারা কি ঘুমিয়ে ছিল ? আসল উদ্দেশ্য হয়রানি করা !
মানুষের প্রধান সমস্যা -
শিক্ষা'-
স্বাস্থ্য-
কর্মসংস্থান-
আর্থিক বৈষম্য -
শিল্পপতিদের হাতে একের পর এক রাষ্ট্রীয় বা জনগণের সম্পত্তি হস্তান্তরণ ।
এইসব বিষয়গুলোকে ধামাচাপা দিতে একের পর এক বিষয় সামনে নিয়ে আসা হচ্ছে ।
আসল উদ্দেশ্য জনসাধারণকে ব্যতিব্যস্ত করে রাখার পরিকল্পনা ।
যাতে তারা মূল সমস্যাগুলো নিয়ে আন্দোলন না করতে পারে, প্রতিবাদ না করতে পারে ।
সরকারি ব্যবস্থায় যে কাজগুলো হওয়ার দরকার ছিল, তা কিন্তু হয়নি, যেমন ২০২১ সালে জনগণনা !
সরকারি স্কুলের শিক্ষাব্যবস্থাকে ধ্বংস করে দিয়ে শিক্ষকদের এই কাজে লাগানো সবার আগে বন্ধ করা দরকার ।
শিক্ষিত বেকারদের এই কাজে নিয়োজিত করা যেতেই পারে ।
সবচেয়ে ভালো হতো এমপ্লয়মেন্ট এক্সচেঞ্জ থেকে নাম নিয়ে এদেরকে কাজে লাগানো যেতে পারত ।
কর্মসংস্থানের সবচেয়ে ভালো জায়গা এমপ্লয়মেন্ট এক্সচেঞ্জ । অথচ সেই এমপ্লয়মেন্ট এক্সচেঞ্জ এখন কোথায় ?
লালবাতি প্রায় জ্বালিয়ে দেওয়া হয়ে গেছে ।
পাবলিক সার্ভেন্টদের দায়িত্ব - যদি কোন ভুয়ো ভোটার, মৃত ভোটারের নাম ভোটার লিস্টে থাকে তাদের চিহ্নিত করে তাদের তালিকা থেকে বাদ দেওয়া উচিত ।
সে দায়িত্ব সরকারি কর্মচারীদের ।
স্বচ্ছ নির্বাচনী তালিকা প্রস্তুত করা ।
আর এই ভোটার লিস্ট ডিজিটাল মাধ্যমে সবার সামনে নিয়ে আসা । আধারের সঙ্গে ভোটার লিস্টের সংযুক্তিকরণ ।
এই ডিজিটাল যুগে যেখানে আধার তৈরি হয়ে গেছে খুব সহজেই যে কোন তথ্য সরকারের পেয়ে যাওয়া উচিত ।
তার জন্য জনসাধারণকে এত বিব্রত করার কোন প্রয়োজন নেই ।
তাহলে এত ঢাক ঢোল পিটিয়ে, সাধারণ মানুষকে বিভ্রান্ত করে, ব্যতিব্যস্ত করে, টেনশন দিয়ে, এই কাজ কেন ?
এই কাজগুলো নীরবে ইলেকশন কমিশন করে নিতে পারে।
আসলে মনে হচ্ছে এটাও এক ধরনের নির্বাচনী প্রচার - কেন্দ্রীয় ও রাজ্য সরকারের সম্মিলিতভাবে ।
পাবলিককে অযথা হয়রানি করার কোন অধিকার কি আছে পাবলিক সার্ভেন্টদের ?
আর তা যদি হয় তার জন্য দায়ী থাকবে সেই সমস্ত পাবলিক সার্ভেন্টরা ।
তারা জনগণের সেবা দেওয়ার পরিবর্তে জনগণের কাছ থেকে সেবা নেওয়া শুরু করে দিয়েছে ।
আর এর ভুক্তভোগী সবচেয়ে বেশি #মূলনিবাসী #বহুজন সমাজের তপশিলি জাতি, জনজাতি, অনগ্রসর শ্রেণীর প্রান্তিক মানুষেরা ।
সাধারণ মানুষের গণতান্ত্রিক চেতনা না থাকার জন্য এই ঘটনাগুলো ঘটে চলেছে !
----------xx-----
